ডিজেল সংকটে বোয়ালখালীতে ফসল নিয়ে শঙ্কায় কৃষকেরা
ডিজেল সংকটে বোয়ালখালীতে ফসল নিয়ে শঙ্কায় কৃষকেরা
এম মনির চৌধুরী রানা
ইরান আমেরিকা যুদ্ধে সম্প্রতি জ্বালানি তেল ডিজেলের সংকটে বিপাকে পড়েছেন বোয়ালখালী উপজেলার প্রান্তিক কৃষকেরা। জ্বালানি তেলের (বিশেষ করে ডিজেল) কৃত্রিম সংকটের কারণে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি দামে কিনে চালাতে হচ্ছে সেচ পাম্প। এতে বাড়ছে সেচ খরচ। ফলে ক্ষেতের ফসল নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকেরা।
বোরো আবাদ মৌসুমে সেচ পাম্প চালানো এবং কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের জন্য ডিজেলের প্রয়োজন হলে ও বাড়তি দাম ও প্রাপ্যতার অভাবে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানান একাধিক কৃষক।
রবিবার (৫ এপ্রিল ) উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার প্রায় বিলে ডিজেল চালিত পাম্পে সেচ দিয়ে শুকনো মৌসুমে ক্ষেতে বোরো ধান, সবজি ও ডাল জাতীয় ফসলের চাষ করা হয়।
বোয়ালখালী উপজেলার সব কয়টি ইউনিয়নের আবাদযোগ্য জমিতে এসব ফসলের চাষাবাদ হয়ে থাকে। সম্প্রতি ডিজেল তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। খুচরা পর্যায়ে মিলছে না তেল। কয়েকজন বিক্রেতা ডিজেল বিক্রি করলে ও নিচ্ছেন লিটার প্রতি ২০/৩০ টাকা বাড়তি। তবে পাম্প থেকে নিলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে মিললে ও তা পাম্প পর্যন্ত পৌঁছাতে বাড়ছে পরিবহন খরচ। তাই কাছাকাছি থাকা খুচরা বিক্রেতাদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বোয়ালখালী উপজেলায় একমাত্র জ্বালানি তেলের পাম্প রয়েছে পূর্ব কালুরঘাটে। যা পূর্বাঞ্চল থেকে প্রায় ১২/১৫ কিলোমিটার দূরত্বে।
এ উপজেলায় বেশিরভাগ কৃষি জমি ও বাগান রয়েছে পূর্বাঞ্চলে। ফলে ডিজেল পরিবহনে যাতায়াত ভাড়াও গুণতে হচ্ছে সেচ পাম্প চালকদের।
শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের কৃষক মানিক বড়ুয়া জানান, এই সময় সেচ না দিলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে। তাই সেচ পাম্প চালাতে তিনি খুচরা তেল বিক্রেতাদের কাছ থেকে ১৩০ টাকা দরে প্রতি লিটার ডিজেল কিনছেন। পাম্প থেকে কিনলে তা ১০০ টাকা দরে পাওয়া যেত।
আহল্লা করলডেঙ্গা, আমুচিয়া, সারোয়াতলী ইউনিয়নের একই চিত্র কৃষক বেলাল হোসেন, জাকারিয়া, সিরাজুল ইসলাম, মাসুমএকই সুরে কথা বলছেন ।
তারা কেউ করেছেন বোরো আবাদ, কেউ ফলাচ্ছেন সবজি। এখন বাড়তি দামে ডিজেল কিনতে হওয়ায় বাড়ছে সেচ খরচ। এসময় ক্ষেতে সেচ না দিয়েও উপায় নেই বলে জানালেন সারোয়াতলী কৃষক আবুল কালাম । তিনি বলেন, কয়দিন পর বোরো ধানের শীষ বের হবে। তাই ক্ষেতে পানি দিতেই হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে বোয়ালখালীতে ১ হাজার ৬৯৩ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। ডিজেল চালিত পাম্পের মাধ্যমে সেচ দিয়ে চাষাবাদ হয় ৪০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজেল চালিত ১০টি এলএলটি পাম্প ও ১৯০টি ফ্যাকশনাল পাম্প। এসব পাম্পের সাহায্যে শাক সবজি, বোরো ধানের আবাদ হয়ে থাকে।
উপজেলা কৃষি অফিসার শাহানুর ইসলাম বলেন, এখন ধানে শীষ বেড় হচ্ছে। শীষ বেড় হওয়া থেকে শুরু করে দানা শক্ত না হওয়া পর্যন্ত জমিতে ২-৩ ইঞ্চি পানি রাখতে হবে। এসময় পর্যাপ্ত পানি না দিলে ফলন কম হবে।
তিনি বলেন, বিক্ষিপ্ত ভাবে কৃষকদের কাছ থেকে কিছু অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তারা বলছে, জ্বালানি তেল সংকটের কারণে সেচ পাম্প চালু করতে পারছেন না।
এব্যাপারে আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়ে মনিটরিং করছি, যাতে কেউ জ্বালানি তেল মজুদ করতে না পারে। এছাড়া কৃষকরা যেন জ্বালানি তেল পান সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স